রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবার স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে স্বাস্থ্য দপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল ঠিক সেখানেই এবার রাজ্য সরকার উঠে দাঁড়ালেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরে ফির ঢেলে সাজানোর জন্য নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন রাজ্য সরকার। তিনি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য দপ্তরে বিপুল সংখ্যক শূন্য পদে নিয়োগ হবে। আজকের এই প্রতিবেদনে ধাপে ধাপে বিস্তারিত জানবো –

কেন এই ঘোষণা এখন?

এদিন শিয়ালদহে একটি সরকারি রোজগার মেলায় যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তও উপস্থিত ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পদের মাত্র ৫৩ শতাংশে নিয়োগ হয়েছে। অথচ সারা দেশে এই হার গড়ে ৯৮ শতাংশ। এই বিশাল ফারাক দেখেই বোঝা যায়, বাংলায় কতটা পিছিয়ে পড়া হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করে আসছিলেন যে স্বাস্থ্যদপ্তরে নিয়োগ আটকে রয়েছে। অনেকে বছরের পর বছর পরীক্ষা দিয়ে, প্রস্তুতি নিয়েও চাকরি পাননি। আগের সরকারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগও বারবার উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই এই ঘোষণা।

 মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ?

শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি বললেন, আগের সরকারের আমলে নিয়োগ দুর্নীতিতে সারা দেশের কাছে পশ্চিমবঙ্গের মাথা নিচু হয়েছে। সেই ক্ষত সারাতে নতুন নিয়োগ নীতি চালু করবে বিজেপি সরকার। সম্ভবত আগামী বাজেট অধিবেশনেই বিধানসভায় এই প্রস্তাব তোলা হবে।

এদিন পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়েও কড়া কথা বললেন তিনি। জানালেন, এখন ওএমআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলেও পরীক্ষার্থীকে কার্বন কপি দেওয়া হয় না। এটা একটা বড় সমস্যা। কার্বন কপি না থাকলে পরীক্ষার্থী নিজে বুঝতে পারেন না তিনি কত নম্বর পাওয়ার যোগ্য। ফলে কারচুপির সুযোগ থেকেই যায়। তিনি বললেন, এই ব্যবস্থা বদলানো হবে। নতুন নিয়মে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ওএমআর শিটের কার্বন কপিও পাবেন।

রাজ্যে মৌখিক পরীক্ষায় বদল আসছে

লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় যে অতিরিক্ত নম্বর রাখা হয়, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর থাকলে স্বজনপোষণের সুযোগ বাড়ে। পরিচিত মুখকে বেশি নম্বর দিয়ে পাস করিয়ে দেওয়া সহজ হয়ে যায়। তাই মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানো উচিত বলে মনে করেন তিনি। অ্যাকাডেমিক স্কোর এবং লিখিত পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দিলে প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ পাবেন।

নতুন সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান বাড়ানোও লক্ষ্য

শুধু নিয়োগ নয়, হাসপাতালের মানোন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ন্যাশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সংক্রান্ত কাজে বাংলা এখন ৫৬ শতাংশের কাছাকাছি আছে। এই অর্থবর্ষেই তা ১০০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কাজটা একটু সময় নেবে, কিন্তু সেই দিকেই এগোনো হচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের সাধারণ মানুষ কী ভাবছেন?

এই ঘোষণা শুনে অনেক চাকরিপ্রার্থী আশার আলো দেখছেন। যাঁরা বছরের পর বছর স্বাস্থ্যদপ্তরে চাকরির অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের কাছে তিন মাসের সময়সীমার ঘোষণা অবশ্যই ভালো খবর। তবে অনেকে সতর্কও আছেন। ঘোষণা আর বাস্তবে মেলানো সবসময় সহজ হয় না। তিন মাস পার হলেই বোঝা যাবে কতটা কাজ আসলে হলো।

জুন মাসে নতুন নিয়োগ আইন এলে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা সত্যিই বাড়লে, সেটা কেবল স্বাস্থ্যক্ষেত্রেই নয়, রাজ্যের সামগ্রিক নিয়োগ ব্যবস্থায় একটা বড় বদল আনতে পারে। সেই পরিবর্তনের জন্যই এখন অপেক্ষা করছেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।

By Arman

চাকরির, স্কিম, স্কলারশিপ, পড়াশোনা, রেজাল্ট ও এই ধরনের নানা আপডেট নিয়ে গত ৭ বছর ধরে কন্টেন্ট লিখে আসছি। আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টায় থাকি যাতে পাঠক উপকৃত হয়।