রাজ্যের বেকার ছেলেমেয়েদের জন্য এল দারুণ সুখবর। আগামী ১ জুন থেকেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে ৩,০০০ টাকা করে বেকার ভাতা? রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর এটিই সম্ভবত সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা হতে পারে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ‘যুবশ্রী’ ও যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা পেতেন। নতুন সরকার সেই অঙ্ক একলাফে দ্বিগুণ করে দিল। ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ নামের এই নতুন প্রকল্পে প্রতি মাসে মিলবে ৩,০০০ টাকা। যতদিন কর্মসংস্থান না মিলছে, ততদিন এই সহায়তা চলতে থাকবে বলে জানা যায়।

বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকে যুবশ্রী প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন, তাঁদের জন্য একটা বড় স্বস্তির খবর হলো নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে না। যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এতদিন দেড় হাজার টাকা পেতেন, সেই একই অ্যাকাউন্টে এখন থেকে ৩,০০০ টাকা আসবে। অর্থাৎ ঝামেলা নেই, লাইন নেই, নতুন কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝক্কি নেই।

এই ঘোষণা যে অনেকের কাছেই বড় স্বস্তির, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজ্যে এমন অনেক পরিবার আছে যেখানে শিক্ষিত ছেলে বা মেয়ে বছরের পর বছর চাকরির খোঁজ করে যাচ্ছেন, কিন্তু এখনো সফল না। সেই পরিবারগুলোর কাছে এই ভাতার টাকা অনেকটা ভরসার মতো কাজ করে থাকে। মাসের শেষে একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক আসবে জেনে রাখলে অন্তত দিন চলার মতো একটা ভিত্তি থাকে।

তবে এখনো প্রশ্নও থাকছে। শুধু ভাতা দিলেই তো চাকরির সমস্যা মিটবে না। রাজ্যে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কম নয়। সবার অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাঠাতে হলে সরকারি কোষাগারে চাপ পড়বে, সেটা স্বাভাবিক। তাই এই ভাতাকে সাময়িক সমাধান হিসেবেই দেখছেন অনেকেই। সরকারের আসল সমাধান হলো কর্মসংস্থান তৈরি করা।

সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এই টাকা ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে। যতদিন কাজ মিলছে না, ততদিন এই সহায়তা বন্ধ হবে না। এটি একটি বড় প্রতিশ্রুতি হতে চলেছে। আগের সরকারের আমলে অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন যে নাম থাকলেও টাকা ঠিকমতো আসত না। এবার সেই সমস্যা না হলেই লাভ সাধারণ মানুষেরই হবে।

তবে আপাতত যাঁরা যুবশ্রীর সুবিধা পেতেন, তাঁদের ১ জুনের দিকে নজর রাখা ভালো। অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা এলেই বোঝা যাবে প্রকল্পটি সত্যিই চালু হয়ে গেছে। আর যাঁরা এখনও কোনো প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের জন্য আবেদনের সুযোগ আসবে কিনা এবং কীভাবে আবেদন করবেন, সেটা সরকারের পরবর্তী ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

By Arman

চাকরির, স্কিম, স্কলারশিপ, পড়াশোনা, রেজাল্ট ও এই ধরনের নানা আপডেট নিয়ে গত ৭ বছর ধরে কন্টেন্ট লিখে আসছি। আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টায় থাকি যাতে পাঠক উপকৃত হয়।